এটা ঠিক যে যিনি সঠিকভাবে ধর্ম পালন করেন তিনি অনেক নীতি-আদর্শ ও দায়িত্ব পালন করেন । আর যিনি সঠিকভাবে
ধর্ম পালন করেন না- তিনি নীতি-আদর্শ ও দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন না
। সঠিকভাবে ধর্ম পালন করবেন আর কোন নীতি-আদর্শ ও দায়িত্ব পালন করবেন না এটা অসম্ভব,
অবাস্তব বা ঠিক না । তাই, যিনি ধার্মিক তিনিই তুলনামূলকভাবে অ-ধার্মিকের
চেয়ে বেশী দায়িত্ববান, আদর্শবান ও নীতিবান । এরূপ ধার্মিক ব্যক্তির
জন্যই সমাজ-সংসারের উন্নতি ও উপকার হয় । ধার্মিক ব্যক্তির
ইহকালিন কল্যাণ ও আত্ম-মুক্তি এই ধর্ম পালনের মধ্যেই সাধিত হয়।
সঠিকভাবে ধর্ম পালন, দায়িত্ব পালন, নীতি-আদর্শ পালন বা নীতিবান হওয়া কোন প্রকারেই দুর্বলতার ফলশ্রুতি নয় বরং এ-চিন্তা-ভাবনা যারা করে তারাই ভ্রান্তির মধ্যে আছে
। সঠিকভাবে ধর্ম পালন, নীতি-আদর্শ পালন, দায়িত্ব
পালন বা নীতিবান হওয়া মানে অন্য
কোন নীতি-আদর্শ, ধর্মকে হেয় প্রতিপন্ন করা, ঘৃনা করা, অবজ্ঞা করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা নয় । কোন মতবাদে বা কোন ধর্মেই তা গ্রহণযোগ্য নয় । এটাই ধর্মের এবং মার্কসবাদ-লেলিনবাদের প্রকৃত উপলব্ধি
। কোন ধর্ম পালন না করে, কোন মূল্যবোধের সাথে সংশ্লিষ্ট না হয়েই, কোন নীতি-আদর্শের তোয়াক্কা না করেই ও কোন সামাজিক
দায়িত্ব পালন না করেই আপনি ধর্মের বিরুদ্ধে ব্লগ তৈরী করবেন, ধর্মের বিরুদ্ধে যা মনে হয় লিখবেন (ধর্মের বিরুদ্ধাচারণ করবেন) আর ফ্রীডম অফ থট এর দোহাই দিবেন, তা ধার্মিক লোকেরা মেনে নেবে এটা কি ভাবে ভাবা যায় । ধর্ম পালন না করা, কোন মূল্যবোধের সাথে সংশ্লিষ্ট না হওয়া, কোন নীতি-আদর্শের তোয়াক্কা না করা, সামাজিক দায়িত্ব পালন না করা এবং ধর্মের বিরুদ্ধে ব্লগ তৈরী করা একটা নব্য সামাজিক ব্যধি – অবক্ষয়, পরিত্যাজ্য-নিন্দনীয়
অপরাধ ।
যারা
কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে
এমন বক্তব্য ব্লগ, ফেসবুক,
ও
পত্রিকায় প্রকাশ করবেন, সেই
ব্যাক্তি বা ব্যাক্তিবর্গো, পত্রিকার
প্রকাশনা
বন্ধ সহ সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকার বাধ্য । ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে ১২টি ব্লগ ও ফেসবুক
পেইজ বন্ধ করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে
বিশেষ টিম (বিডি-সিএসআইআরটি : বাংলাদেশ কম্পিউটার সিকিউরিটি
ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম) ।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2013/02/21/188922#.USZQHKDzJIg
সামাজিক ও সাংষ্কৃতিক উন্নতির জন্য নীতি-আদর্শ পালন, দায়িত্ববান হওয়া, মূল্যবোধ ধারণ করা এবং ধর্ম পালন করা খুবই জরুরী এবং এর কোন বিকল্প আছে বলে কোন সমাজ-সাংষ্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন লেখকদের লিখনীতে খুজে পাওয়া যাবে না । যে সমাজের মানুষ কম দায়িত্ববান, নীতি-আদর্শের ধার ধারে না,
ধর্ম পালনে যাদের অনীহা, সে সমাজ
দ্রুত অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হয় এবং সেটা একটা ক্ষয়িষ্ণু সমাজ । আসলে যিনি ধর্ম পালন
করেন বা নীতি-আদর্শ ধারণ করেন বা সামাজিক
বা রাষ্ট্রীয় রীতি-নীতি মান্য করেন তিনিই “সামাজিক ও ধার্মিক ব্যক্তি” আর যিনি এর উল্টোটা
তিনি “অ-সামাজিক ও অ-ধার্মিক
ব্যক্তি” ।
সঠিক ধর্ম বা সবচেয়ে গতিশীল ধর্ম ও দ্রুত বিকাশমান
ধর্ম হচ্ছে “ইসলাম” । ইসলাম অর্থ আল্লাহ
সুবহানা তায়ালার নিকট নিজের ইচ্ছাকে সমর্পন করে আল্লাহ সুবহানার বিধান বা আদেশ মত নিজের
জীবন পরিচালিত করা । এটা একটা খুবই সোজা
ব্যপার নয় বিধায় আজকাল সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অবক্ষয়ের সময় সঠিক ইসলামিক লোককে কম দেখা যায়
। সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর ধর্ম ইসলাম ও ইসলাম এর অনুসারিরা মুসলমান
নামে পরিচিত । আল্লাহর
নিকট একমাত্র মনোনীত জাতি মুসলমান জাতি যাদের
ধর্ম ইসলাম । আমাদের সকাল-বিকাল এবং প্রত্যেক ভাল কাজের
শুরু-শেষ হবে আল্লাহর তাআলার নামে বা আল্লাহ তাআলার প্রশংসার মাধ্যমে। হে আল্লাহ বিশ্বজাহানের
মুসলিম উম্মাহর উপর শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন।
মহান স্রষ্টা মানুষের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন যাপনের জন্য যুগে যুগে অনেক নবী – রাসূল প্রেরণসহ অনেক কিতাব প্রেরণ করেছেন । সকল মানুষ কখনোই মহান স্রষ্টা প্রেরিত ঐ নবী – রাসূল এবং প্রেরিত কিতাবের পূর্ণ সন্মান করে নাই । একদল মানুষ মান্য
করেছে – ইহকালিন ও পরকালিন সাফল্য পেয়েছে অন্য দল অমান্য করেছে – ইহকালিন ও পরকালিন ক্ষতিগ্রস্থ ও ধ্বংস হয়েছে । ক্ষতিগ্রস্থ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতীগুলোর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আদ
জাতী, সামুদ জাতী, কওমে লূত, ফেরাউন, নমরূদ, কারুন, সাদ্দাত ইত্যাদির কথা পবিত্র
গ্রন্থ আল কুরআনে উল্লেখ আছে । আদ জাতির, সামূদ
জাতির অমার্জনীয় হঠকারিতার ফলে প্রাথমিক গজব হিসেবে
উপর্যুপরি তিন বছর বৃষ্টিপাত বন্ধ থাকে। তাদের শস্যক্ষেতগুলো শুষ্ক বালুকাময়
মরুভূমিতে পরিণত হয় । আদ জাতি ও সামূদ
জাতি হযরত নূহের বংশধরদের থেকে উদ্ভুত। তারা আরবের উত্তর-পশ্চিম এলাকায় বাস করতো, যার অবস্থান ছিল মদিনা ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী 'হিজর'
বা "পর্বতময় শহর" এলাকা । এদের জনপদ উল্টে দেওয়া হয়েছিল বা অন্য জনপদ ভূমিকম্পের মাধ্যমে ধ্বংস হয়েছিল ।
যমীন যখন আপন কম্পনে ভীষনভাবে প্রকম্পিত (ভূমিকম্প) হবে (“ইযা যুল যিলাতি আরদু যিল যা লাহা” – সূরা নং ৯৯, আয়াত নং ১) । কখন এবং কেন যমীন ভীষনভাবে প্রকম্পিত (ভূমিকম্প) হবে ? – যমীনের মানুষ যখন চরমভাবে আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর মনোনীত ধর্মের বিদ্রোহ করবে তখনই যমীন ভীষনভাবে প্রকম্পিত (ভূমিকম্প) হবে, ধর্মগ্রন্থেতো তাই বলে । ধর্ম পালন না করা এক রকম কিন্ত নিজেতো ধর্ম পালন করবই না আবার অপরকেও ধর্ম পালন করতে দিব না, তার নামে ব্লোগে কুরুচীপূর্ন মন্তব্য লিখে টাকা কামাব-এটা কেমন? ধর্ম পালন না করা লঘু অপরাধ, ধর্মের বিদ্রোহী হওয়া চরম অপরাধ । আপনি কি বলেন ।
আপনি ধর্ম নিরপেক্ষ বা অনীশ্বরবাদ বা নাস্তিক হতে পারেন কিন্ত ধর্মদ্রোহী হয়ে নিজের ও সমাজের ক্ষতির কারন হইয়েন না ।
উত্তরমুছুন